Gime ShakOthers 

নানা রোগ নিরাময়ে গিমে শাক

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : শাকটি অযত্ন অবহেলায় বেড়ে ওঠে। অন্যান্য শাকের মতো এটি চাষ করা হয় না। তবে অনেকে শাকটিকে টবে বা বাগানে লাগিয়ে থাকেন। সাধারণতভাবে এটি পুকুর-খানা-ডোবার ধারে বা পরিত্যক্ত জলাভূমিতে জন্মাতে দেখা যায়। এক্ষেত্রে জানা যায়, অগ্রহায়ণ মাস থেকে আষাঢ় মাস পর্যন্ত কমবেশি পাওয়া যায়। পৌষ থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়। ঋগ্বেদে এই শাকের উল্লেখ পাওয়া যায়। শাকটির নাম- গিমে শাক।

‘গ্রীষ্মসুন্দর’ শাকটি দীর্ঘকাল অবহেলিত অবস্থায় থাকে। আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বিচার-বিশ্লেষণ করে এই শাকের অনেক গুণের কথা বলা হয়েছে। শাকটি স্বাদে তেতো, রুচিপ্রদ, কফ ও পিত্তনাশক, অরুচিনাশক, যকৃৎ ও প্লীহার ক্রিয়াবর্ধক, হজমকারক, কোষ্ঠসাফকারক, রক্তহীনতা ও জন্ডিস রোগের ক্ষেত্রে খুবই উপকারী। সমীক্ষা অনুযায়ী জানা গিয়েছে, এটি হজমকারক, কৃমিনাশক, প্রদাহনাশক, মধুমেহ নাশক, বেদনাহর, যকৃতের ক্রিয়াবর্ধক, অ্যান্টিসেপটিক, অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টি-ফাঙ্গাল প্রভৃতি গুণ-সম্পন্ন।

এক্ষেত্রে আরও জানা গিয়েছে, শাকটি অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ এবং ইমিউনোমডুলেটর গুণের। এই শাকের সঙ্গে বেগুন ও অল্প আলু দিয়ে রান্না করে খাওয়া যেতে পারে। গরম ভাতে খাওয়া যায়। আবার এই শাকটির নরম ডগা দিয়ে পকোড়া, ফুলুরি বা চপ বানিয়ে যাওয়া যেতে পারে। শাকটি সামান্য তেলে ভেজে ভাতের প্রথম পাতেও খাওয়া যায়। বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে এই শাকের গুরুত্ব রয়েছে।

আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, যকৃৎ ভাল থাকবে, ক্ষুধা বৃদ্ধি হবে ও অরুচি দূর হবে এই শাকে। ১০ গ্রাম শাক অল্প জলে ফুটিয়ে সেটিকে ছেঁকে সকালে ও সন্ধ্যায় হালকা জল খাবারের পর খেলে উপকার পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে বিভিন্ন রোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। জন্ডিসে শাকসিদ্ধ জলে পরিমাণ মতো চিনি বা গুড় মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। আবার শাকটি শুকিয়ে রাখলে বছরের অন্যান্য দিনগুলিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

Related posts

Leave a Comment